করলা- করলার উপকারিতা ও অপকারিতা

Food Habit

করলা

করলা যা উচ্ছে নামেও পরিচিত। আমাদের অতি পরিচিত একটি সবজি এটি। স্বাদে তিতা হলেও পুষ্টিতে অনন্য। তিতা স্বাদ বলে অনেকেই এটি খেতে চান না। বিশেষ করে বাচ্চারা এটি খেতে অনেক বেশিই অনীহা দেখায়। কিন্তু এই সবজির ক্ষেত্রে এই অনীহা দূর করে এটি খাওয়া উচিৎ।

করলার উপকারিতা

ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ফাইবার বা আঁশ, প্রোটিন, লৌহ ইত্যাদি নানা পুষ্টি উপাদানে ভরপুর করলার রয়েছে অনেক উপকারিতা। এর দারুণ সব উপকারিতা একে অনন্য করে তুলেছে। আসুন জেনে নিই করলার দারুণ সব উপকারিতা সম্পর্কে।

  • করলার রস শ্বাসকষ্ট জাতীয় রোগ থেকে মুক্তি দেয়। পানির সাথে এই রস ও মধু মিশিয়ে খেলে ব্রংকাইটিস, অ্যাজমা এ সকল রোগ থেকে উপকার পাওয়া যায়। পাশাপাশি গলার প্রদাহও কমায় এটি।
  • উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সবজির রয়েছে অনেক ভূমিকা।
  • পেটের কৃমি দূর করতে করলা বেশ কার্যকর একটি খাবার। পাশাপাশি এটি ভাইরাস নিধনেও ভূমিকা রাখে।
  • রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে এই সবজির রয়েছে বেশ ভূমিকা। পাশাপাশি এটি রক্ত বাড়াতেও সাহায্য করে। তাই রক্তশূন্যতায় যারা ভুগছেন তাদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী।
  • চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে এই সবজির রয়েছে বেশ দারুণ ভূমিকা।
  • শরীর থেকে টক্সিক বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে রক্তকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে করলা ও এর রস।
  • এতে থাকা ভিটামিন-সি ত্বক ও চুলের জন্য দারুণ উপকারী।
  • দ্রুতই বার্ধক্য আসা প্রতিরোধ করে তারুণ্য ধরে রাখতে নিয়মিত খেতে পারেন করলা। এতে আপনার তারুণ্য ধরে রাখতে পারবেন।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা যাদের আছে তারা নিয়মিত করলা খাওয়া উচিৎ। পাশাপাশি এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে থাকে।
  • দেহে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সবজির জুড়ি মেলা ভার। এতে থাকা প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এই কাজে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার।
  • যেকোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় এটি। এক কথায় এই সবজি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
  • ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম লাইকোপিন নামক উপাদান রয়েছে এই সবজিতে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন করলা খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
  • রক্তনালিতে ক্ষতিকর চর্বি জমা প্রতিরোধ করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এই সবজি।
  • অনেক সময় মুখের রুচি চলে যায়। ফলে কিছু খেতে ইচ্ছে হয় না। তখন প্রতিদিন দুই বেলা করে করলার রস খেলে মুখের রুচি বা স্বাদ ফিরে আসবে।
  • ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীকে নিয়মিত করলা পাতার রস খাওয়ালে রোগী সুস্থ হয়ে যায়। পাশাপাশি জ্বর কমাতেও এই সবজি বেশ কার্যকর।
  • বাতের ব্যথা কিংবা এ জাতীয় বিভিন্ন ব্যথা কমাতে এই সবজি দারুণ উপকারী।
  • এছাড়াও শরীর কামড়ানো কিংবা বমি বমি ভাবের মতো রোগ থেকে মুক্তি পেতে করলার রস খেলে উপকার পাবেন।
  • যাদের এলার্জির সমস্যা আছে তারা উচ্ছে বা করলার রস খেলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
  • ভিটামিন-বি কমপ্লেক্সের অভাব পূরণেও এই সবজির রয়েছে বেশ দারুণ কার্যকারিতা।
করলার উপকারিতা
করলা।

করলার অপকারিতা

করলার উপকারিতা তো জানলাম তবে জানেন কি এরও রয়েছে কিছু অপকারিতা। আসুন জেনে নিই এর অপকারিতার দিকগুলো।

  • গর্ভবতী নারীরা অধিক পরিমাণে এটি খেলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই গর্ভকালীন সময়ে এটি বেশি না খাওয়াই ভালো।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি বেশ কার্যকরী হলেও ঔষধ খাওয়ার পাশাপাশি বেশি করলা খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তখন ডায়াবেটিস বেশি কমে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিসের ওষুধ খেলে করলা খান একদম সীমিত পরিমাণে।
  • হৃৎস্পন্দন বা হার্টবিটের নিয়মিত চলাচলকে অনিয়মিত করে দিতে পারে এটি। বিশেষ করে কমবয়সীদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদিও এটি ক্ষেত্র বিশেষে হয়। সবার ক্ষেত্রে হবেই যে এমন কিন্তু নয়।
  • এটি বেশি খেলে লিভারের প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।
  • শিশুরা করলা খেলে অনেক সময় পেটের বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি পেটে বিষক্রিয়াও হতে পারে।

উপসংহার

করলা একটি অত্যন্ত উপকারী খাবার। যদিও এর কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে, যা আসলে ক্ষতিকর না বলে বেশি খাওয়ার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া বলা শ্রেয়। তাই এই খাবার বা সবজি থেকে পূর্ণাঙ্গ উপকারিতা পেতে হলে এটি পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। স্বাদ তিতা হলেও জোর করে হলেও এটি খাওয়া উচিৎ। এতে আমাদেরই উপকার হবে। তাই এখন থেকেই এই খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

আরও পড়ুন

লবণ এর উপকারিতা।
লেবু খেলে কি হয়?
কালোজিরা কেন খাবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All Rights Reserved By Healthjus © 2021-2022