কলা – কলার উপকারিতা ও অপকারিতা

Health and Body Food Habit General Queries

কলা একটি অন্যতম সহজলভ্য ফল। সহজ প্রাপ্য এই ফল নিয়মিত খেতে পারলে আছে অনেক উপকার। এই ফল আমাদের দেহের ক্যালরির চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করার সামর্থ্য রাখে। অন্য যেকোনো দামী খাবারের চেয়ে পুষ্টিগুণে কোনো অংশেই কম নয় এটি। এটি যেমন দেহের ভিটামিনের চাহিদা মেটায় তেমনি দেহে শক্তিও জোগায়। আবার আয়রন, খনিজ লবণ পটাশিয়াম ইত্যাদি উপাদানের চাহিদাও মেটাতে সক্ষম এই ফল। দাম নাগালের মধ্যে হওয়ায় ধনী থেকে গরীব সকলেই এই খাবার খেয়ে সহজেই নিজেদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারেন। কলা একটি উপকারী ফল পাশাপাশি এর কি অপকারিতাও আছে? আসুন জেনে নিই এ বিষয়ে বিস্তারিত।

কলার উপকারিতা ও অপকারিতা

কলার উপকারিতা

কলা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। এটি একটি পুষ্টিকর ও সুমিষ্ট ফল। কম দামে সেরা খাবার বলা চলে এটিকে। বাচ্চা থেকে বড় সকলেরই প্রিয় ফলের তালিকায় কলার স্থান উপরের দিকেই। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই ফলের রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা। দেহের জন্য উপকারী নানাবিধ উপাদান রয়েছে এই ফলে। এর উপকারিতা সম্পর্কে এবার জেনে নিই।

  • দেহের জন্য প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে কলার জুড়ি নেই। তাই প্রতিদিন অন্তত একটি কলা খেতে পারেন। এতে পূরণ হবে আপনার দেহের পটাশিয়ামের চাহিদা।
  • এই ফলের একটি অন্যতম গুণ হলো শরীরে প্রচুর শক্তি যোগায় এটি। শরীরের দুর্বলতা দূর করতে তাই খেতে পারেন এই ফল।
  • দেহের হাড়ের গঠন ও হাড়কে মজবুত করতে পারে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম, যার উভয়ই কলায় উপস্থিত। তাই এটি খেলে দেহের হাড় শক্ত ও মজবুত হয়।
  • সুমিষ্ট একটি ফল হলেও কলা দেহের সুগার কিন্তু বাড়ায় না। এতে ভালো মানের জিআই ভ্যালু থাকায় এই ফল খেলে দেহের সুগারের পরিমাণ বাড়ে না। সুতরাং, আপনার ডায়াবেটিস বা সুগারের সমস্যা থাকলেও এটি খেতে পারেন চিন্তা ছাড়াই।
  • কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। আর এই ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে এই ফল খেতে পারেন নিয়মিত।
  • এতে থাকা ফাইবার যে শুধুই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয় তা কিন্তু নয়। এই ফাইবার কিন্তু আপনার হজমশক্তিও বাড়িয়ে দিবে এবং পেটও পরিষ্কার রাখবে।
  • নবজাতক শিশুরা কিছুটা বড় হলে তাদের প্রথম শক্ত খাবার খাওয়ানো নিয়ে অনেকেই ভয় পান৷ এক্ষেত্রে কলা হতে পারে দারুণ এবং সহজ সমাধান। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাচ্চাদের তাই শক্ত খাবার হিসেবে খাওয়াতে পারেন এই ফল।
  • দেহের জন্য উপকারী ক্যারোটিনয়েড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে কলায়। এগুলো দেহের জন্য দারুণ উপকারী। তাই এ সকল উপাদানের চাহিদা পূরণ করতেও খেতে পারেন এই ফল।
কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
কলা

কলা কখন খাবেন?

অত্যন্ত উপকারী ফল কলা কখন খাবেন? অনেকের মনের প্রশ্ন থাকে এটি কখন আসলে খাওয়া উচিৎ? এবার এ বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।

এই ফল আসলে সকাল বেলা খাওয়াই ভালো। তবে সকালে খেলেও খালি পেটে খাওয়া উচিৎ নয়। এর সাথে অন্য কোনো শুকনো খাবার বা অন্য কোনো খাবার খেয়ে তারপরই কলা খাওয়া উচিৎ। খালি পেটে খেলে এসিডিটিসহ নানা সমস্যা হতে পারে।

তবে কি শুধু সকালেই খাওয়া যাবে এই ফল? আসলে বিষয়টি এমন নয়। এই ফল আপনি দিনের যেকোনো সময়েই খেতে পারেন। তবে দিনের শুরুতে খেলে এর উপকার পাওয়া যায় সারাদিন। তাই দিনের শুরুতেই খেতে পারেন একটি কলা এবং সেটি অবশ্যই ভরা পেটে।

রাতে কি কলা খাওয়া যায়/ রাতে কলা খেলে কি হয়?

কলা খাওয়ার সময় নিয়ে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন। এর মধ্যে অন্যতম একটি প্রশ্ন হল এটি রাতে খাওয়া যায় কি না বা রাতে খেলে কি হয়। অনেকের মতে, রাতে এই ফল খাওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু কেন?

আসলে রাতে এই ফল খাওয়া উচিৎ নয় এই মতামত বা নিষেধাজ্ঞা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যাদের অ্যাজমা জাতীয় সমস্যা আছে কিংবা ঠান্ডা লাগা, কাশি এসব সমস্যা আছে তারা রাতে কলা না খাওয়া উচিৎ। কারণ এই ফল একটি ঠান্ডা ফল। তাই যাদের ঠান্ডার সমস্যা আছে তারা রাতে এই ফল না খাওয়া উচিৎ।

অপরদিকে যাদের ঠান্ডা বা অ্যাজমার সমস্যা নেই তারা কিন্তু রাতে এই ফল খেলে উপকারই পাবেন। কারণ, এই ফল পেটে থাকে অনেকক্ষণ। ফলে রাতে এই ফল খেলে ঘুমের সময় আর সহজে ক্ষুধা লাগে না। এছাড়া রাতের দিকে এই ফল খেলে দেহে তা প্রচুর শক্তি যোগায়, ফলে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়। এই ফল খেলে ক্লান্তি দূর হওয়ায় তা ভালো ঘুম হওয়ার জন্যও সহায়ক।

ওজন নিয়ন্ত্রণে কলা

অনেকেই ভাবেন কলায় প্রচুর শর্করা ও ক্যালরি আছে বলে এটি খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। আসলে কিন্তু তা নয়। এতে থাকা শর্করা ও ক্যালরি ওজন বাড়ায় না। বরং এতে থাকা অন্যান্য উপাদান দেহের অন্য উপকার করে।

পাশাপাশি এই ফলে থাকা ফাইবার উল্টো ওজন কমাতে সাহায্য করে। কলায় ফাইবার থাকার কারণে এটি খেলে সহজে অন্য খাবার খেতে ইচ্ছে হয় না, কিন্তু পেট ভরা থাকে। অন্য খাবার কম খাওয়ার কারণে তখন ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই ডায়েট করলে খাদ্য তালিকায় অবশ্যই কলা রাখবেন।

কলার উপকারিতা ও অপকারিতা
কলা খেতে পারেন নিয়মিত।

কলার অপকারিতা

কলার অপকারিতার কথা বলতে গেলে বলার মতো তেমন কিছুই আপনি পাবেন না। কারণ এর তেমন কোনো অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিক নেই। কিন্তু যদি আপনি খালি পেটে এই ফল খান তখন কিন্তু আপনি ক্ষতি বা অপকারিতার সম্মুখীন হবেন। তাই খালি পেটে কলা খাওয়া সবসময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন।

সকালে তড়িঘড়ি করে দ্রুত নাস্তা করতে অনেকেই এই ফল দিয়ে নাস্তা শেষ করতে চান। তবে এর সাথে অবশ্যই অন্য কোনো হালকা খাবার অবশ্যই খেয়ে নিবেন যাতে খালি পেটে এই ফল খেতে না হয়।

উপসংহার

ধনী কিংবা দরিদ্র সকলের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর সবচেয়ে সহজ উপাদান বা খাদ্য হল কলা। আপনি অন্য খাবার হয়তো এত সহজে খেতে পারবেন না বা অনেকের সামর্থ্যেও তা হয় না। এক্ষেত্রে এই কলাই হল সবচেয়ে সহজ সমাধান।

এটি যেমন আপনার সারাদিনের ক্লান্তিও দূর করে দেয়, তেমনি আপনার দেহকেও করে তোলে চাঙ্গা। পাশাপাশি দেহের অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের চাহিদাও মেটাবে এই ফল। তাই প্রতিদিন অন্তত একটি কলা খাওয়ার চেষ্টা করুন। তাতে দেহের পুষ্টির ঘাটতিও পূরণ হবে, দেহও পাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি।

আরও পড়ুন

পদ্মার ইলিশ এত সুস্বাদু কেন?
কাজু বাদাম এর উপকারিতা কি?
রসুন খেলে কি উপকার পাবেন?

মধুর উপকারিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All Rights Reserved By Healthjus © 2021-2022