কাজু বাদাম খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

Food Habit General Queries Health and Body

ইংরেজিতে Cashew Nuts নামে পরিচিত অত্যন্ত উপকারী ও পুষ্টিকর একটি খাদ্য হল কাজু বাদাম (kaju badam)। শারীরিক উপকারিতার জন্য এই বাদামের অবদান অপরিসীম। নিয়মিত কাজু বাদাম খেলে দেহের খনিজ পদার্থ ও অন্যান্য পুষ্টি অবদানের ঘাটতি পূরণ হয়।

কিছু গবেষণার মতে, প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ টি কাজু বাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। অনেক ডাক্তার আবার একে “প্রাকৃতিক ভিটামিন ট্যাবলেট” বলে থাকেন। দেখতে অনেকটা ট্যাবলেটের মতো হওয়ায় এবং অনেক পুষ্টিগুণ থাকায় ডাক্তাররা একে প্রাকৃতিক ভিটামিন ট্যাবলেট বলেন।

কাজু বাদাম কেন খাবেন?

কাজু বাদামের উপকারিতা

শারীরিক উপকারিতার দিক থেকে কাজু বাদামের নাম না বললেই নয়। অসংখ্য পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ এই বাদাম মানুষের দেহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি দেহের জন্য খনিজ পদার্থের অভাব যেমন পূরণ করে তেমনি ভাবে অন্যান্য ভিটামিনের অভাবও পূরণ করে। আসুন জেনে নিই কাজু বাদামের উপকারিতা কি কি:

  • কাজু বাদামে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সেল। এই সেল ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি এটি টিউমার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে।
  • হার্টের জন্য এই বাদাম অত্যন্ত উপকারী। হার্টকে সুস্থ রাখতে এই বাদাম অনন্য।
  • কাজু বাদামে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম যা ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতে ভূমিকা রাখে। তাই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত কাজু বাদাম খাওয়া যেতে পারে।
  • এই বাদামে রয়েছে ওলিসিক নামে এক ধরনের আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড যা দেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কার্যকর।
  • মানুষের চুলের গোড়া দুর্বল থাকলে চুল পড়ে যায়। আর এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কাজু বাদাম খাওয়া যেতে পারে। কারণ এই বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কপার যা চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে।
  • এছাড়াও এই বাদাম চুলের গোড়াই যে শক্ত করে এমন নয়, পাশাপাশি চুলের ঔজ্জ্বল্যতাও বৃদ্ধি করে।
  • দেহকে আক্রমণকারী বিভিন্ন ক্ষতিকর ভাইরাস প্রতিরোধে কাজু বাদামের জুড়ি মেলা ভার। তাই প্রতিদিন এই খাবার গ্রহণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
  • এছাড়াও এই বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম মানুষের ব্রেন বা মস্তিষ্কের টিস্যুর শক্তি বাড়িয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই একে ব্রেনের ‘পাওয়ার বুস্টারও’ বলা হয়।

তাছাড়াও শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশেও এটির রয়েছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। শিশু কিংবা বড়দের মেধা ও স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধিতে এই বাদাম বেশ কার্যকর।

কাজু

খালি পেটে কাজু বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

কাজু বাদাম খেলে উপকার হয় অনেক সে বিষয়ে আমরা উপরেই জেনে গেছি। কিন্তু জানেন কি খালি পেটে এটি খাওয়ারও উপকারিতা আছে? আসুন জেনে নিই খালি পেটে এই বাদাম খেলে কি কি উপকারিতা পেতে পারি।

শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য

খালি পেটে এই বাদাম খেলে তা শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। দেহের শক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হলো কার্বোহাইড্রেট যা প্রচুর পরিমাণে কাজু বাদামে রয়েছে। তাই এটি খেলে এই কার্বোহাইড্রেট ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়ে দেহে শক্তি জোগায়।

হাড়ের গঠন মজবুত করতে

কাজু বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম। এসব উপাদান দেহের হাড়ের গঠনের জন্য খুব কার্যকরী। এরা দেহের হাড়কে শক্ত ও মজবুত করে তোলে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কাজুবাদাম

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দেহে দরকার হয় ফাইবার নামক উপাদানের। আর খালি পেটে কাজু বাদাম খেলে এই ফাইবার পাওয়া যায় যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজম শক্তিও বাড়াতে সাহায্য করে।

ওজন কমানো

কতিপয় গবেষণার মতে, কাজু বাদামে থাকা ফাইবার দেহের ওজন কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এই বাদামে রয়েছে বিভিন্ন উপাদান যেগুলো স্থূলতা প্রতিরোধ করে। এছাড়াও এটি যেহেতু কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণ করে তাই খালি পেটে প্রতিদিন এই এটি খেলে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কাজু বাদাম খাওয়ার নিয়ম

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে কাজু বাদাম খাওয়ার কি কোনো নিয়ম আছে? এই খাবার খাওয়ার নিয়ম আছে তবে সেক্ষেত্রে আপনি কেন খাচ্ছেন সেটি হতে পারে প্রশ্ন।

অনেকে ডায়েট করার জন্য এই বাদাম খেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে সকাল ১১ টা থেকে ১২ টার মধ্যে এবং বিকাল ৪ থেকে ৫ টার মধ্যে ৩-৪ টি করে কাজু খেতে পারেন। এই বাদামে প্রচুর শর্করা থাকায় অনেকক্ষণ পেটও ভরা থাকে এবং ডায়েটও ঠিক থাকে।

আবার ডায়েট ছাড়া অন্য কোনো কারণে কাজু বাদাম খেলে রাতে ভিজিয়ে রেখে তারপর সকালে খালি পেটে খাওয়াই শ্রেয়। এতে সহজে হজম হয়।

এছাড়াও গর্ভবতী নারীরা প্রতিদিন ১০ থেকে ৫০ গ্রাম কাজু বাদাম খেতে পারেন। সংখ্যায় যার পরিমাণ হতে পারে ৩৫ থেকে ৬৫ টি। এক্ষেত্রে অবশ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিয়মমাফিক এই বাদাম খাওয়া ভালো।

এছাড়া প্রাপ্ত বয়স্ক যেকোনো মানুষ প্রতিদিন ৫০ গ্রাম বাদাম খেলে যা দেহের জন্য পর্যাপ্ত। সংখ্যায় যার পরিমাণ হতে পারে ৩০ থেকে ৩৫ টি।

কাজু বাদাম
কাজু বাদামের উপকারিতা

কাজু বাদামের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া

  • কাজু বাদামের উপকারিতা অনেক আছে তা আমরা জানলাম। তবে এর কি শুধুই উপকারিতা আছে? কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া কি নেই? এর উত্তর হল যত উপকারই জিনিসই হোক না কেন অতিরিক্ত গ্রহণ তা হিতে বিপরীত হতেই পারে। কাজু বাদামের যে যে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া রয়েছে তা হল:
  • এই বাদামে অনেক ফাইবার রয়েছে। তাই এই বাদাম অতিরিক্ত খেলে পেটের বিভিন্ন রোগ বা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বেশি উপকারের আশায় অতিরিক্ত পরিমাণে এই বাদাম না খাওয়াই ভালো।
  • এই বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম বিভিন্ন ঔষধের কাজে বাধা দিতে পারে যা রোগকে বাড়িয়ে দিতে পারে। সুতরাং, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে এ জাতীয় কোনো ঔষধ খেলে এই খাবার পরিহার করাই ভালো।
  • আবার কাজু বাদামে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন। আর প্রোটিনযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণের কিডনির সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। তাই এটি অতিরিক্ত খাওয়া উচিৎ নয়।
  • কাজু বাদাম কিংবা যেকোনো বাদাম থেকে অনেকের এলার্জিও হতে পারে। তাই যাদের এলার্জির সমস্যা আছে তারা এটি খাওয়ার আগে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।

অন্য সব উপকারী জিনিস বা খাবারের মতোই কাজু বাদামের রয়েছে বেশ কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া। তবে এ সকল পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াকে পাশে সরিয়ে রাখলে কাজু বাদামের উপকারিতাই কিন্তু বেশি।

উপকারী জিনিসের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। আর এ সকল পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকর দিক থেকে দূরে থাকতে সীমিত পরিমাণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ কাজু বাদাম গ্রহণ করাই শ্রেয়। এতে করে শুধু উপকারিতাই পাওয়া যাবে বেশি পরিমাণে।

আরও পড়ুন

মেথি – মেথির উপকারিতা ও অপকারিতা এবং গুণাগুণ

কলা – কলার উপকারিতা ও অপকারিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All Rights Reserved By Healthjus © 2021-2022