কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

Health and Body

কিডনি দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহের একটি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, প্রথম অবস্থায় কিডনির সমস্যা কেউ বুঝতে পারেন না। অধিক ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পর রোগী তার সমস্যা বুঝতে পারে তবে ততোদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই আমাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে একটি সুস্থ কিডনি থাকা আবশ্যক। কেননা একবার এই অঙ্গ অসুস্থ হয়ে পড়লে তা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন ও খরচ সাপেক্ষ।

কিডনি কি?

এটি আমাদের দেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি রক্ত পরিশোধন করে, শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, রক্তকণিকা গঠন এবং হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। এটি দেখতে আসলে দুটি মটরশুটির মতো। এ দুটি পাঁজরের খাঁচার ঠিক নীচে থাকে, মেরুদণ্ডের প্রতিটি পাশে একটি করে থাকে। একটি সুস্থ্য কিডনি প্রতি মিনিটে প্রায় আধা কাপ করে রক্ত ফিল্টার করে, একইসাথে প্রস্রাব তৈরির জন্য বর্জ্য এবং অতিরিক্ত পানিও অপসারণ করে।

কিডনি রোগের লক্ষণ

  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা।
  • প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া।
  • প্রস্রাব কম বা বেশি হওয়া।
  • মনোযোগ কমে যাওয়া।
  • দেহে ফোলাভাব।
  • সর্বদা শীত অনুভূত হওয়া।
  • বমিবমি ভাব।
  • ছোট ছোট নিঃশ্বাস।
  • ত্বকে রেশে দেখা দেওয়া।
  • পিঠের পাশে নিচের দিকে ব্যথা হওয়া।

কিডনি রোগের কারন

কিডনি রোগের মধ্যের দুই তৃতীয়াংশের ক্ষেত্রে দায়ী ডায়াবেটিস এবং হাই ব্লাড প্রেশার। এছাড়াও বেশকিছু কারণে কিডনি রোগ দেখা দিতে পারে। নীচে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১) উত্তরাধিকারসূত্রেঃ

অনেকে উত্তরাধিকারসূত্রে কিডনি রোগের ধারক হয়ে থাকেন। কারো পরিবারে রক্ত সম্পর্কীয় কেউ যদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তবে সেও কিডনি রোগের ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।

২) জন্মসূত্রে:

অনেক সময় মাতৃগর্ভে বাচ্চা অবস্থায়ই কিডনি রোগের সমস্যা দেখা দেয়। প্রস্রাব যাওয়ার রাস্তা ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হয়ে গিয়ে হয়তো কম পরিমাণ মুত্র বেরোয় এবং এর ফলে মুত্র কিডনিতে ফেরত আসে। এর থেকে সংক্রমণ শুরু হয় এবং এর থেকে আস্তে আস্তে কিডনির ক্ষতি হয়।

৩) গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস:

এটি একধরনের রোগের সমষ্টি। এটির ফলে কিডনির ছাঁকনিতে জ্বালা-যন্ত্রণা থেকে শুরু করে ক্ষয়ও হয়। কিডনির রোগের তৃতীয় মুখ্য প্রচলিত কারণ হিসেবে এটিকে মনে করা হয়।

এছাড়াও অন্যান্য রোগ যেগুলোর ফলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় সেগুলো থেকেও এই রোগ দেখা দিতে পারে। তবে সন্দেহ হলেই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যধিক জরুরি।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
কিডনি।

কিডনি রোগ প্রতিরোধের উপায়

একবার এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি জানে সেখান থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা কঠিন। তাই প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা। নীচে এই রোগ হতে বাঁচার কিছু পদ্ধতি নীচে দেওয়া হয়েছে:

ক) ধূমপানকে না বলুন:

ধূমপান আমাদের সার্বিক সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সবচেয়ে বড় অন্তরায়। ধূমপানের ফলে শরীরে নানাবিধ রোগ দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে কিডনিতে পাথর, কিডনি ক্যান্সার বা বিকল হয়ে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

খ) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন:

শরীরের অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যা সহ আরো অন্যান্য জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই আমাদের ওজনকে মাথায় রেখে খাবার গ্রহণ করা উচিৎ।

গ) স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান ও পানি পান:

এই রোগ থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও নিয়মিত পানি পানের জুড়ি মেলা ভার। অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও মশলা জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও পরিমিত পরিমাণে সবসময় পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

কিডনি রোগীর খাদ্য তালিকা

কিডনি রোগীদের নিজেদের খাদ্য তালিকায় আমুল পরিবর্তন নিয়ে আসতে হয়। নীচে CKD আক্রান্ত রোগীদের একটি সহজ খাদ্যতালিকা দেওয়া হলো:

ফল:

বেরি, আঙ্গুর, চেরি, আপেল, বরই।

শাকসবজি:

ফুলকপি, পেঁয়াজ, বেগুন, শালগম।

প্রোটিন:

চর্বিহীন মাংস (হাঁস, মাছ), ডিম, আনসাল্টেড সামুদ্রিক খাবার।

কার্বন:

সাদা রুটি, ব্যাগেলস, স্যান্ডউইচ বান, আনসাল্টেড ক্র্যাকার, পাস্তা।

পানীয়:

জল, পরিষ্কার খাদ্য সোডা, মিষ্টিহীন চা।

একজন দক্ষ পুষ্টিবিদ এই বিষয়ে আপনাকে আরো সহায়তা প্রদান করতে পারেন। CKD এবং ডায়াবেটিস উভয়ই সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়, তাই আপনারও খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে।  সুপারিশ অনুযায়ী আপনার পুষ্টিবিদের সাথে যোগাযোগ করতে ভুলবেন না। আপনি আপনার খাবার তালিকা বানাতে, যে কোন সমস্যার সমাধান করতে এবং আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

কিডনি ভালো রাখার উপায়

কিডনি আমাদের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। আমাদের সবসময় উচিত এটিকে সুস্থসবল রাখা। নীচে এসম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো:

  • নিয়মিত শারীরিক ব্যয়াম করুন।
  • পরিমিত ডায়েট গ্রহণ করুন।
  • নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষার মধ্যে রাখুন
  • ধূমপানকে না বলুন।
  • শরীরের ইলেক্ট্রলাইটসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করুন।
  • নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পরিশেষে:


আমাদের সুস্থতা নিশ্চিতে একটি সুস্থ কিডনি অত্যন্ত আবশ্যক। আমাদের প্রতিনিয়ত এর দেখভাল করা উচিত। কেননা এর চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় পাশাপাশি অত্যন্ত কষ্টকরও।

আরও পড়ুন:

আদার উপকারিতা ও অপকারিতা।
পনির খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম।
নিম পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা।

তথ্যসূত্র:
https://www.healthline.com/nutrition/best-foods-for-kidneys
https://www.cdc.gov/diabetes/managing/eat-well/what-to-eat.html

2 Comments

  1. Pingback:দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায় » HealthJus

  2. Pingback:এলার্জি দূর করার উপায় » HealthJus

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All Rights Reserved By Healthjus © 2021-2022