ছাতু খাওয়ার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

Food Habit General Queries
ছাতু

ছাতু এক সময় খুব পরিচিত একটি খাবার হলেও কালের বিবর্তনে এখন এর নাম প্রায় শোনাই যায় না। অথচ দারুণ পুষ্টিকর একটি খাবার। এটি ছোলার ডাল থেকে তৈরি হয়। ছোলার ডালকে পিষিয়ে তৈরি করা হয় এই খাদ্য। ডালের পুষ্টিসম্পন্ন ও সহজেই রান্না করা যায় এই খাবার। এর রয়েছে অনেক গুণাগুণ ও উপকারিতা। আজ আমরা এটি সম্পর্কেই জানবো।

ছাতু কি?

এক সময়ের বহুল প্রচলিত ছাতু আসলে একটি খাদ্যশস্য। মূলত ছোলার ডাল থেকেই এটি প্রস্তুত হয়। ছোলার ডালকে পিষিয়ে গুঁড়া করে ছাতু তৈরি করা হয়। তবে ছোলা ছাড়াও যব, চাল ইত্যাদি থেকেও এটি তৈরি হয়। এই খাবারে রয়েছে অনেক পুষ্টি উপাদান। এই খাবারে রয়েছে প্রোটিন, এর সাথে রয়েছে কার্বোহাইড্রেটও। আবার একই সাথে এতে রয়েছে ভরপুর মিনারেলস বা খনিজ পদার্থ। এক কথায় একে সুপার ফুডই বলা হয়।

১০০ গ্রাম মাছে যে পরিমাণ প্রোটিন থাকে ১০০ গ্রাম ছাতুতে এর চেয়ে বেশি থাকে। একই সাথে ১০০ গ্রাম ছাতু থেকে ৬০ থেকে ৬৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। এই খাবার দেহে অনেক শক্তি জোগায়। পাশাপাশি এর গ্লাইসোমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন সহজেই কোনো ক্ষতি ছাড়াই। পাশাপাশি জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ইত্যাদির অভাবও পূরণ করে এই ছাতু।

ছাতু খাওয়ার উপকারিতা

ছাতুতে রয়েছে নানান পুষ্টি উপাদান। এটি আমাদের দেহের অনেক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। পাশাপাশি দেহে শক্তি জোগায়। এই খাবারের রয়েছে অনেক উপকারিতা। আসুন জেনে নিই এর উপকারিতা কি কি।

ওজন কমায়

কতিপয় গবেষণার মতে, ছাতু খেলে পেট ভরা থাকে অনেকক্ষণ। ফলে অন্য খাবার খেতে তেমন একটা ইচ্ছা হয় না। এর ফলে দেহের ওজন কমে। তাই ডায়েট চার্টে রাখতে পারেন এই খাবার।

শরীরের রোগ কমায়

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই খাবার খেলে দেহ থেকে রক্তের মধ্যে থাকা টক্সিক বা বিষাক্ত পদার্থ বেড়িয়ে যায়। ফলে দেহ থেকে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রোগজীবাণু বের হয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমে।

দেহে শক্তি জোগায়

ছাতু খেলে দেহে এনার্জি বা শক্তি পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে ছাতুর শরবত খেলে আপনার দেহে প্রচুর শক্তি পাবেন। এতে আপনার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এটি ভিটামিন ও মিনারেলসের অভাব পূরণ করে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও বাড়ায়।

পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা বাড়ায়

পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা বাড়াতেও এই খাবারের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। এই খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। ফলে এটি খেলে কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমে। পাশাপাশি হজমশক্তিও বাড়ে। এছাড়াও পাকস্থলী থেকে ক্ষতিকর তেল বা চর্বি বের করে দিতেও এটি ভূমিকা রাখে।

ছাতু খাওয়ার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম
ছাতু

ত্বক ও চুলের ঔজ্জ্বল্যতা বাড়ায়

ছাতুতে রয়েছে প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই দুটি উপাদান ত্বকের ও চুলের ঔজ্জ্বল্যতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ত্বকের জেল্লা বাড়ায় এটি এবং চুলকে শক্ত ও মজবুত করতেও সাহায্য করে।

বয়স্কদের জন্য

বয়স হলে মানুষের শরীরে নানা রোগের দেখা দেয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ছাতু হতে পারে দারুণ সমাধান। বেশ কিছু গবেষণার মতে, ৬০ বছর বয়সের পর এটি নিয়মিত খেলে বয়সের কারণে হওয়া অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়। তাই বাড়ির বয়স্কদের নিয়মিত এই খাবার খাওয়ান। এতে উপকার পাবেন।

ডায়াবেটিসের জন্য

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত খেতে পারেন ছাতুর শরবত। এই খাবারের গ্লাইসোমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা নিশ্চিন্তে খেতে পারেন এটি।

রক্তচাপ কমায়

কতিপয় গবেষণার মতে, ছাতু খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তারা চাইলে প্রতিদিন এই খাবার খেতে পারেন।

শিশুদের উপকারে

বাজারের হেলথ ড্রিংকের পরিবর্তে শিশুদের খাওয়াতে পারেন ছাতুর শরবত বা ছাতু। কারণ শিশুদের দৈহিক গঠন ও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদানই আছে এই খাবারে।

মেয়েদের শারীরিক ক্ষমতা বাড়ায়

পিরিয়ডের সময় মেয়েদের দেহে ভিটামিন সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়। তখন তারা শারীরিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে খেতে পারেন এটি। শরীরের ক্ষমতা বাড়াতে ও শরীর সচল রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখবে এই খাবার।

ছাতু খাওয়ার নিয়ম

ছাতু কিভাবে খাবেন? এটি খেতে পারেন প্রতিদিন সকালে লেবুর রস ও লবণ দিয়ে শরবতের সাথে মিশিয়ে। এছাড়াও ছাতু থেকে পুর বানিয়ে তা থেকে রুটি কিংবা পরোটা বানিয়ে খেতে পারেন। ডায়াবেটিস জাতীয় সমস্যা না থাকলে দুধ, কলা আর চিনির সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন।

আবার শুধু পানিতে বা জলে গুলেও খেতে পারেন এই খাবার। শিশুদের দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন এটি। তবে যেভাবেই খান না কেন দিনের বেলায়ও এটি খাওয়া ভালো। কারণ এটি হজম হতে সময় লাগে বিধায় রাতের চেয়ে দিনে খেতে পারলেই ভালো হয়।

ছাতুর অপকারিতা

ছাতুর আসলে কার্যত কোনো অপকারিতা নেই। অন্য সব খাবারের মতো এর কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। তাই নিশ্চিন্তে খেতে পারেন এটি। তবে সব খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। তাই ছাতুও নিয়মিত খান কিন্তু পরিমিত পরিমাণে। এছাড়া দিনের বেলায় এটি খাওয়া ভালো যেহেতু এটি হজমে সময় নেয়। তাই রাতের চেয়ে দিনের বেলা খাওয়াই যৌক্তিক।

উপসংহার

ছাতু একটি অত্যন্ত উপকারী খাদ্য। বর্তমানে শহরের অভিজাত ফাস্টফুড খাবারের আড়ালে এই উপকারী খাবারের কথা মানুষ প্রায় ভুলতেই বসেছে। কিন্তু এই খাবারের কোনো ক্ষতি নেই। এই ক্ষতিহীন উপকারী খাবারটি প্রতিদিন খেতে পারলে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই উপকার পাবেন। তাই আজ থেকেই শুরু করে দিন নিয়মিত ছাতু খাওয়া। এতে আপনারই মঙ্গল।

আরও পড়ুন

মেথির উপকারিতা কি কি?
আখরোট বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম।
করলার উপকারিতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All Rights Reserved By Healthjus © 2021-2022