দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায়

Health and Body General Queries

দাঁতের ব্যথা যে কতটা কষ্টদায়ক তা শুধুমাত্র সেই ব্যক্তি বুঝতে পারে যাকে এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এই ব্যথা মাত্রারিক্ত হয়ে গেলে এক মুহুর্তও সহ্য করা যায়। সেইসময় অনেকেরই দাঁত ফেলে দিতে ইচ্ছে হয়। আজ আমরা এই দাঁতব্যথা কমানোর ওষুধ ও অন্যান্য উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।

দাঁত মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি আমাদের একইসঙ্গে খাবার চিবানোয় ও কথা বলাতে সহায়তা করে। এটি মানুষের মুখের সৌন্দর্যও ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায়

আপনার যদি দাঁতে থেকে থাকে তবে আপনার এটির মূল কারণ কী তা আগে বের করতে হবে। কারণ খুঁজে পেলে, আপনি কোন ব্যথা, ফোলাভাব কীভাবে উপশম করবেন তা নির্ধারণ করতে পারবেন। নীচে এটি দূর করার আরো পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো:

লবণ পানির ব্যবহার:

লবণ পানি একধরনের প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক, এটি আপনার দাঁতের মাঝে আটকে থাকা খাদ্য কণা এবং জীবাণু আলাদা করতে সাহায্য করতে পারে।

ঠান্ডা সেঁক নিন:

আপনি যেখানে ব্যথা অনুভব করছেন তা উপশম সেখানে আপনি একটি ঠান্ডা সেঁক ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করে তীব্র ব্যথা, ফোলাভাব ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

রসুনের ব্যবহার:

হাজার হাজার বছর ধরে রসুন একটি স্বীকৃত ঔষধি গুণ সম্পন্ন খাদ্য। এটি খেলে মুখের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াসমূহ দূর হয়। এটি একইসঙ্গে ব্যথা উপশমকারী হিসেবেও কাজ করে।

ভ্যানিলা এক্স্ট্রাক্ট:

ভ্যানিলা এক্স্ট্রাক্টে অ্যালকোহল থাকে, যা ব্যথা অসাড় করতে সাহায্য করতে পারে। এটিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্যথা নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকর।‌ এটি ব্যবহার করতে আপনার আঙুল বা তুলোর বলের উপর অল্প পরিমাণ ভ্যানিলা নির্যাস নিয়ে দিনে কয়েকবার ব্যথার স্থানে ব্যবহার করুন।

দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায়

দাঁতের মাড়ি ব্যথা কমানোর উপায়

মাড়ির ব্যথা একটি বিরক্তিকর সমস্যা যা বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি হরমোনের পরিবর্তন, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের কারণে হতে পারে এমনকি এটি পিরিয়ডের সময়ও হতে পারে। এছাড়াও শক্ত ব্রাশের খোঁচা, জীবাণু বা অন্যান্য কারণেও এটি হতে পারে।

ক)গরম সেঁক:

সামান্য পানি গরম করে নিন। তবে এতো গরম করে ফেলবেন না যাতে এটি আপনি ধরতে না পারেন। পানি আপনার সহ্য করার মতো যথেষ্ট গরম হওয়া উচিত। এবার একটি পরিষ্কার কাপড় ধরুন এবং এটি পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, অতিরিক্ত জল ছেঁকে নিন এবং মাড়ির ব্যথার জায়গায় আপনার মুখে ছেঁক দিন।

খ)টি-ব্যাগ:

একটি টি-ব্যাগ ফুটন্ত পানিতে কমপক্ষে 5 মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন, তবে চা বানিয়ে ফেলবেন না। টি-ব্যাগটি কয়েক মিনিটের জন্য ঠান্ডা হতে দিন, যাতে এটি গরম না হয় এবং আক্রান্ত মাড়িতে লাগান। তবে টি-ব্যাগ বাছাইয়ের সময় সবুজ চা, কালো চা, বা হিবিস্কাস চা কিনতে চেষ্টা করুন। টি-ব্যাগ মাড়ির প্রদাহ দূর করতে অত্যন্ত উপকারী।

গ)হলুদের পেস্ট:

হলুদে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি আপনার মাড়ির ফোলা, ব্যথা এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। প্রথমে ১-৪ চা চামচ হলুদ পাউডারের সাথে সামান্য পানি ব্যবহার করে একটি পেস্ট তৈরি করতে হবে।

এবার এই পেস্টটি আক্রান্ত মাড়িতে লাগান এবং ৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। মাঝে মাঝে সাহান্য ম্যাসেজ করুন।

দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায় ও ওষুধ

দাঁতের ব্যথার অসহ্যকর পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর তার দাঁত ফেলে দিতে ইচ্ছা করে। এই ব্যথা কমাতে ঘরােয়া বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। লবণ পানি দিয়ে মুখ কুলি করা, পেয়ারা পাতা চিবানাে, লবঙ্গ পেস্ট করে লাগানাে, কাঁচা পেঁয়াজ  চিবিয়ে খাওয়া ইত্যাদি।

তবে এ সকল উপায় থেকে যে ব্যথা পুরােপুরি কমবেই
তা কিন্তু নয়। এগুলো কাজ করতেও পারে আবার নাও করতে পারে। তখন ব্যথানাশক ট্যাবলেট বা ওষুধ খেতে হতে পারে। তবে ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই সর্বোপরি।

প্রায়সময় দাঁতের ব্যথায় ডাইক্লোফেনাক সােডিয়াম (ডাইভন), ইবুপ্রােফেন, ইত্যাদির মতাে ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে দেওয়া হয়। এছাড়া এন্টিবায়ােটিকের সময় এমােক্সিসিলিন এবং অগমেনটিন ইত্যাদি এর মত ঔষধের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

পরিশেষে:

দাঁতের ব্যথাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। এথেকে পরবর্তীতে আরো ভয়াবহ সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই এইরকম সমস্যা দেখা দিলেই দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা উচিত।

আরও পড়ুন:

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার।
আদার উপকারিতা ও অপকারিতা।
পনির খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম।

Sources:


https://www.healthline.com/health/quick-relief-from-gum-pain#overview
https://www.healthline.com/health/dental-and-oral-health/home-remedies-for-toothache#garlic

One Comment

  1. Pingback:এলার্জি দূর করার উপায় » HealthJus

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All Rights Reserved By Healthjus © 2021-2022