পেটের মেদ কমানোর ঘরোয়া উপায়

General Queries Health and Body

বর্তমান বিশ্বে প্রায় সকলেই পেটের মেদ কমানোর উপায় খুঁজছেন? আধুনিক বিশ্বায়নের সময়ে অধিকাংশ মানুষই অত্যধিক পরিমাণে পেটের মেদ সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে সবচেয়ে খারাপ বিষয় হচ্ছে তাদের অনেকেই এটাকে গুরুত্ব সহকারে না নিয়ে খুব হেলায় ফেলে রাখেন। এই অতিরিক্ত মেদ একদিকে যেমন দেহের সৌন্দর্য্য নষ্ট করে অন্যদিকে শরীরে নানান রোগেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, এমনকি উচ্চ রক্তচাপের মতো আরো ক্ষতিকর বিভিন্ন রোগের কারণ এই পেটের অতিরিক্ত মেদ। নীচে পেটের মেদ কমানাের কিছু ঘরোয়া এবং কার্যকরী উপায় সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো।

ভুড়ি কমানোর উপায়

সব মানুষই চায় সুস্থ, স্বাস্থ্যকর ও আকর্ষণীয় দেহ পেতে। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবন অনিয়মিত অভ্যাস ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং প্রায় কায়িক পরিশ্রম ছাড়া অতিবাহিত হয়।

ফলশ্রুতিতে বেশির ভাগ মানুষই চর্বিযুক্ত দেহ এবং দীর্ঘস্থায়ী স্থুলতার সমস্যাই ভুগে থাকেন। পেটের ভুড়ি কমানোর জন্য কিছু নিয়ম কানুন নীচে তুলে ধরা হলোঃ

  • তৈলাক্ত ও অধিক চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন। কোল্ড ড্রিংক ও জাঙ্ক ফুড শরীরের বিভিন্ন অংশে ফ্যাট জমা করে রাখে। তাই এই ধরনের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
  • ১ গ্লাস গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এবার সাথে এক চিমটি লবণ দিন। এবার প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এটি পান করুন এতে শরীরের অতিরিক্ত মেদ এবং চর্বি হ্রাস হবে। তবে ভুলেও চিনি ব্যবহার করবেন না।
  • দিনে তিনবার ভারী খাবার খাওয়ার পরিবর্তে দিনে ৫ থেকে ৬ হালকা খাবার খেতে অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাবার খেতে দীর্ঘ বিরতি দেওয়া উচিৎ নয়।
  • রান্নায় অতিরিক্ত মশলা ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে দারুচিনি, আদা ও কালো মরিচের ব্যবহার করা যেতে পারে এগুলো মেদ কমাতে সাহায্য করে। এই মশলাগুলো শর্করাকে কমিয়ে দেবে এবং পেটের মেদ কমিয়ে আনবে। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার ভালো নয়।
  • পেটের ভুড়ি এবং কমাতে হাঁটার কোনো বিকল্প খুঁজে পাওয়া যাবে না। হাঁটা মেদ কমানোর পাশাপাশি, হৃদরোগের ঝুঁকিও কমাবে। তাই প্রতিদিন কমপক্ষে এক থেকে দের ঘন্টা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
  • প্রতিদিন সকালে খালিপেটে ২/৩ কোয়া রসুন চিবিয়ে খান। এরপর লেবুর রস পান করুন। রসুন মেদ বা ফ্যাট কমিয়ে আনতে সক্ষম। তাই রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • রাতের খাবার ঘুমাতে যাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে খেয়ে নিন। এরপর হালকা কিছু কাজ কিংবা হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। এতে খাবার খুব সহজে  হজম হয়ে যাবে। মেদ জমার অন্যতম কারণ হচ্ছে শরীরে খাবার হজম না হওয়া। সুতরাং হজম হওয়ার সময় দিলে মেদ কমে আসবে।

তলপেটের মেদ কমানোর উপায়

তলপেটের মেদ কমানো, ওজন কমানোর একটি সাধারণ লক্ষ্য। তলপেটের চর্বি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।  গবেষণার তথ্য অনুযায়ী টাইপ 2 ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো রোগগুলির সাথে এটির যোগসূত্র রয়েছে। তাই, এই চর্বি কমানো আপনার স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা দিতে পারে। নীচে তলপেটের মেদ কমানোর কিছু উপায় তুলে ধরা হলোঃ

ক)মানসিক অবসাদ দূরে রাখুন:

মানসিক অবসাদ থেকে আমাদের দেহে স্ট্রেস হরমোন নির্গত করে। এই হরমোন তলপেটের চর্বি বাড়াতে পারে। তাই পেটের মেদ কমানোর জন্য মানসিক অবসাদ দূর করে এমন আনন্দদায়ক কাজে নিযুক্ত হওয়া যেতে পারে। ব্যায়াম করা বা শারীরিক পরিশ্রম করা একটি কার্যকরী পদ্ধতি হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

খ)চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন:

চিনিতে ফ্রুক্টোজ নামক উপাদান থাকে, যা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার ফলে আপনার ওজন বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের সূত্রপাত হতে পারে। তবে চিনির বিকল্প হিসেবে স্বাস্থ্যকর শর্করা যেমন প্রাকৃতিক মধু বা আখের রস থেকে তৈরি চিনি অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যাবে।

গ)পর্যাপ্ত ঘুম ঘুমান:

আসলে অপর্যাপ্ত ঘুম আপনার অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে, যার মধ্যে তলপেটের চর্বি অন্যতম। এক্ষেত্রে আপনার উচিত প্রতি রাতে কমপক্ষে ৭ ঘন্টা ঘুমানোর পাশাপাশি, আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণের ঘুম পাচ্ছেন কিনা তা নিশ্চিত করা। আপনার যদি সন্দেহ হয় যে আপনি অনিদ্রাজনিত সমস্যায় ভুগছেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ঘ)ফলের জুস খাবেন না:

যদিও ফলের রস আমাদের শরীরে ভিটামিন এবং অন্যান্য খনিজ দ্রব্যাদি সরবরাহ করে কিন্তু এটিতে একইসঙ্গে সোডা এবং অন্যান্য কোল্ড ড্রিংকের মতোই বেশি চিনি থাকে। এর পরিবর্তে পানিতে মিষ্টি ব্যবহার না করে লেবু ব্যবহার করা যায়।

শেষকথা:

অনেকর জন্যই পেটের মেদ হ্রাস করা তাদের স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করতে পারে।  মানুষ একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য পরিপূরক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এটি অর্জন করতে পারে। তবে সর্বোপরি একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

তথ্যসূত্র:


https://www.prevention.com/weight-loss/a20458064/new-research-on-how-to-lose-belly-fat/
https://www.medicalnewstoday.com/articles/319957#outlook

আরও পড়ুন

দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায়।
এলার্জি থেকে মুক্তির উপায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All Rights Reserved By Healthjus © 2021-2022