মধুর উপকারিতা- মধু খেলে কি হয়? উপকারিতা ও গুণাগুণ

Food Habit General Queries Health and Body

মধু আমাদের অতি পরিচিত একটি খাদ্য উপাদান। মধুর উপকারিতা অনেক। অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু একটি খাদ্য উপাদান এটি। এর একটি বিশেষ গুণ হলো এটি কখনোই নষ্ট হয় না। এমনকি একশত বছর পরেও এটি নষ্ট হয় না, তখনও এটি খাওয়া যায়। এটি খুবই ঘন। আর এই কারণেই এর মধ্যে কোনো জীবাণু বেশি সময় বাঁচতে পারে না।

ফুল থেকে সাধারণত মধু তৈরি হয়। ফুল হতে মৌমাছি মধু আহরণ করে এবং এর পর মানুষ এটি সংগ্রহ করে খাওয়ার উপযোগী করে। মধুতে রয়েছে অনেক পুষ্টি উপাদান। গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ, সুক্রোজ, অ্যামাইনো এসিডের মতো বিভিন্ন উপাদান রয়েছে এতে। এছাড়াও এতে রয়েছে দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্যালরি। তবে এতে নেই কোনো প্রকার চর্বি। এমনকি প্রোটিনও নেই এতে।

মধুর উপকারিতা

ভিটামিন, খনিজ লবণের মতো নানাবিধ পুষ্টি উপাদানে ভরপুর মধুর রয়েছে অনেক উপকারিতা। এটি দেহের নানা রোগ ব্যাধি দূর করে ও দেহের উপকার করে। এবার এর উপকারিতা সমূহ জেনে নেওয়া যাক।

  • খালি পেটে সকালে মধু খেলে পাবেন বেশ অনেকটা উপকার। প্রতিদিন সকালে চাইলে এক চামচ মধু খেতে পারেন কিংবা অর্ধেক গ্লাস গরম জলের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন। বেশ উপকার পাওয়া যায়।
  • রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপন্ন করে দেহের রক্তশূন্যতা দূর করতে মধু হতে পারে একটি কার্যকরী উপাদান।
  • মধুতে আছে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, যা কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর করতে কার্যকর। প্রতিদিন সকালে তাই খালি পেটে এক চামচ মধু খেলে মুক্তি পেতে পারেন কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে। পাশাপাশি ডায়রিয়ার সমস্যাও দূর হবে।
  • মধুর সাথে ১ চামচ মৌরি গুঁড়া মিশিয়ে খেলে তা হৃৎপেশিকে সবল করে ও হৃৎপিন্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
  • প্রতিদিন মধু খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়। কারণ মধু রক্ত পরিষ্কারে সাহায্য করে, পাশাপাশি রক্তনালীকেও পরিষ্কার রাখে।
  • মধু আমাদের দেহে রক্তের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তের উপাদানগুলোকে সক্রিয় ও কার্যকর করে তোলে।
  • এতে থাকা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান দেহকে নানা রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়।
  • মধুর সাথে আদা ও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ বার খেলে হাঁপানির সমস্যা দূর হয়।
  • এটি আমাদের হজমশক্তি বাড়ায় এবং নিজেও সহজে হজম হয়।
  • ডায়েট চার্টে মধু হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এতে চর্বি থাকে না। চর্বিহীন খাবার মধু সহজে হজম হয় এবং দেহের চর্বিও কমায়। এর ফলে দেহের ওজনও কমে।
  • প্রতিদিন ছোলার সাথে মধু মিশিয়ে খেলে তা যৌনক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই এটি কার্যকর।

এছাড়াও আরও নানা উপকারে মধু লাগে। রূপচর্চা কিংবা ক্ষত সারানো কিংবা চুলের যত্নে, যেভাবেই হোক মধুর রয়েছে উপকারিতা। এবার সেগুলোও একটু জেনে নিই।

মধু কেন খাবেন?
মধুর উপকারিতা।

চুলের যত্নে মধুর ব্যবহার

চুলের যত্নে মধু একটি দারুণ কার্যকরী উপাদান। এটি চুলের ঔজ্জ্বল্যতা বাড়ায় ও চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দূর করে। চুলকে মজবুত ও শক্ত করে।

রূপচর্চায় মধুর উপকারিতা

মধুতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী উপাদান, অ্যান্টিসেপটিক ইত্যাদি। এ সকল উপাদান মুখ ও ত্বকের ব্রণ দূর করে, ত্বকের জ্বালাপোড়া কমায়। পাশাপাশি এটি ত্বকের ঔজ্জ্বল্যতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

ক্ষত সারানোয় মধু

শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে মধু হতে পারে এর সবচেয়ে কার্যকর উপশম। পাশাপাশি কেটে গেলে বা জখম হওয়া স্থানে মধু লাগালে অ্যান্টিসেপটিক ঔষধের চেয়েও বেশি উপকার পাওয়া যায় বলে এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, এক্ষেত্রে মধু কতটা উপকারী ও কার্যকর উপাদান।

মধু কিভাবে খাবো? মধু খাওয়ার নিয়ম কি?

মধুর উপকারিতা তো আমরা জেনে গেলাম। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে, মধু কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাবো? এবার এ বিষয়ে আলোচনা করা যাক।

সকালে খালি পেটে

সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু খেলে তা সারাদিনের জন্য দেহে শক্তি জোগাবে। চাইলে কুসুম গরম পানিতে মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে। তবে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি গরম পানিতে মিশিয়ে মধু খাওয়া উচিৎ নয়। পাশাপাশি গরম দুধের সাথে মিশিয়ে খেতেও নিষেধাজ্ঞা আছে বিশেষজ্ঞদের।

লেবুর সাথে মধু

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে মিশিয়ে মধু খেতে পারেন। তবে এর সাথে অল্প লেবুর রস যোগ করে নিলে এর পুষ্টিগুণ বেড়ে যায় অনেক। এটি চর্বি কমাতেও সাহায্য করে।

কালোজিরার সাথে মধু

সকল রোগের অন্যতম এক মহৌষধ কালোজিরার সাথেও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে উপকারিতা পাবেন কয়েকগুণ বেশি। ২৫০ গ্রাম কালোজিরা ও একই পরিমাণ মধু একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে প্রতিদিন গরম পানির সাথে দুই চামচ করে মিশিয়ে খেতে পারেন।

রসুনের সাথে মধু

দেহের কর্মচঞ্চলতা বাড়াতে মধুর সাথে ২-৩ কোয়া রসুন কুচিয়ে খেতে পারেন। এতে ভালো ফল মিলবে। রসুনের আরও উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন এখানে।

মধুর রয়েছে অনেক উপকারিতা
মধু খান, সুস্থ থাকুন।

পদ্ম মধু কি? এর উপকারিতা

পদ্ম ফুল থেকে যে মধু উৎপন্ন হয় তা-ই আসলে পদ্ম মধু নামে পরিচিত। এই মধু অনেক বেশি উপকারী। চোখের বিভিন্ন রোগের কার্যকরী এক ঔষধ হলো এই পদ্ম মধু। এটি বেশ উন্নতমানের মধু।

খাঁটি মধু কিভাবে চিনবো?

অন্য অনেক খাবারের মতোই মধুতেও রয়েছে ভেজাল। আর ভেজাল মধু খেলে এ থেকে কোনো উপকারিতা তো পাবেনই না উল্টো আরও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তাহলে কিভাবে চিনবো খাঁটি মধু? খাঁটি মধু চেনার কয়েকটি উপায়:

  • খাঁটি মধুতে ফেনা তৈরি হয় না যা ভেজাল মধুতে হয়।
  • নকল মধু পানির সাথে মিশলেও খাঁটি মধু মিশে না।
  • নকল মধুর চেয়ে বিশুদ্ধ মধু বেশি ঘন হয়।
  • বিশুদ্ধ মধু সাধারণত আঠালো হয়।

মধুর অপকারিতা

মধুতে তেমন কোনো উপকারিতা নেই। তবুও পরিমিত পরিমাণে মধু গ্রহণ করাই শ্রেয়। কারণ অতিরিক্ত মধু খেলে আবার কখনো কখনো দেহে জ্বালাপোড়া বা অস্থিরতা দেখা দেয়। এছাড়াও এলার্জি জনিত সমস্যা যাদের আছে তারা মধু এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

উপসংহার

মধুর তেমন কোনো অপকারিতা নেই। নিয়মিত মধু খাওয়া তাই আমাদের ক্ষতি করবে না। উপরন্তু নিয়মিত মধু খেলে আমরা এর থেকে অনেক বেশিই উপকৃত হবো।

তাই আমাদের উচিৎ নিয়মিত অল্প করে এবং অতি অবশ্যই সীমিত ও পরিমিত পরিমাণে মধু গ্রহণ করা।

আরও পড়তে পারেন

কাজু বাদাম এর উপকারিতা।
ইলিশ মাছ-এর উপকারিতা ও গুণাগুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All Rights Reserved By Healthjus © 2021-2022