মিষ্টি কুমড়া ও এর বীজ খাওয়ার উপকারিতা

Food Habit General Queries

মিষ্টি কুমড়া বারো মাসই পাওয়া যায় এমন সবজিগুলাের মধ্যে অন্যতম। এটিকে কাঁচা বা পাঁকা দুই পদ্ধতিতেই খাওয়া যায়। এটি সামান্য মিষ্টিজাতীয় একটি সবজি। কাঁচা অবস্থায় এটি সবুজ রঙের হয় এবং পেঁকে গেলে হালকা সবুজ ও হলুদ রঙের সংমিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায় এতে।

মিষ্টি কুমড়া

এটি এক ধরনের ফল জাতীয় সবজি। আমেরিকা বা দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশকে এর উৎপত্তিস্থল হিসেবে ধরা হয়। এটির বলেছেন বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে “Cucurbita moschata” এবং ইংরেজীতে একে “Sweet Gourd” বা “Pumpkin” নামে ডাকা হয়‌।

মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি-কমপেস্নক্স, সি এবং ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস, কপার, ক্যারটিনয়েড এবং অন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এছাড়াও এতে বিটা-ক্যারোটিন থাকে যা একে আমাদের দেহে ক্যান্সার প্রতিরোধক কোষ গঠনে সহায়তা করে। নীচে এর অন্যান্য উপকারিতা তুলে ধরা হলো:

  • দৃষ্টিশক্তির উন্নতি করে।
  • ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করে।
  • হজমশক্তি বৃদ্ধি করে।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনে।
  • রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে সরায়।
  • কিডনি ও লিভার সুস্থ রাখে।
  • বাতের ব্যথা নিরাময় করে।
  • ত্বক ও চুলের উন্নতি করে।

মিষ্টি কুমড়া ভাজি

মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে ভাজি করে খাওয়া। এরজন্য প্রথমে এটির খােসা ছাড়িয়ে টুকরাে টুকরো করে কেটে ভালাে করে ধুয়ে নিন। এবার কড়াই বা ফ্রাইং প্যানে ৪ থেকে ৫ চামচ তেল দিয়ে এতে
পেঁয়াজ ও রসুন কুচি দিয়ে নরম হওয়া পর্যন্ত ভেঁজে রাখুন।

এরপর পেঁয়াজ ও রসুন নরম হয়ে গেলে সামান্য কাঁচা মরিচ বা ধনেপাতা দিয়ে হালকা করে নাড়তে থাকুন। মিষ্টি কুমড়া ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে গেলে ভাজি নামিয়ে পরিবেশন করুন।

মিষ্টি কুমড়া ভর্তা

প্রথমে মিষ্টি কুমড়া ভালাে করে ধুয়ে, খােসা ছাড়িয়ে কেটে সিদ্ধ করে ফেলুন। এবার সিদ্ধ মিষ্টি কুমড়ার সাথে স্বাদ বাড়ানোর জন্য পরিমাণমতো লবণ, কয়েকটি ধনেপাতা কুচি, পরিমাণমতো কাঁচা মরিচ কুচি ও পেঁয়াজ কুচি একসাথে পরিমাণমতো সরিষার তেল নিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। এবার গরম থাকতে থাকতেই এটিকে পরিবেশন করুন।

মিষ্টি কুমড়ার ফুলের উপকারিতা

ভিটামিন বি9 এ সহ অন্যান্য ভিটামিন সমৃদ্ধ, কুমড়ো ফুল স্বাস্থ্য উপকারে পরিপূর্ণ বলে পরিচিত। সাধারণ সর্দি-কাশির চিকিৎসা থেকে শুরু করে শক্ত হাড় তৈরি করা এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা পর্যন্ত, কুমড়োর ফুলের জুড়ি মেলা ভার। শুধু তাই নয়, আপনি জেনে অবাক হবেন যে এই ফুলগুলি বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় সহায়তা করার সাথে সাথে পুরুষের শুক্রাণুর গুণগতমানকেও উন্নত করতে পারে। নীচে এর আরো উপকারিতা তুলে ধরা হলো:

  • এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম।
  • এতে থাকা ভিটামিন-এ চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • মিষ্টি কুমড়ার ফুলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি থাকে যা শরীরের ইমিউনিটিকে আরো শক্তিশালী করে তোলে।
  • এই ফুলে ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ দূর করতে সহায়তা করে।
  • এই ফুল পরিপাকতন্ত্রকে আরো উন্নত করে।

মিষ্টি কুমড়ার বীজ খাওয়ার উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়ার বীজ ছোট হতে পারে, কিন্তু সেগুলো মূল্যবান পুষ্টিতে ভরপুর। এগুলো অল্প পরিমাণ খাওয়াও আপনাকে যথেষ্ট পরিমাণে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্ক সরবরাহ করবে।এই কারণে, কুমড়োর বীজ বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারের সাথে সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত হার্টের স্বাস্থ্য, প্রোস্টেট স্বাস্থ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা অন্যতম। তাই এই বীজগুলোকে সহজেই আপনার ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। নীচে এদের আরো কিছু উপকারিতা সম্পর্কে দৃষ্টিপাত করা হলো:

মিষ্টি কুমড়ার বীজ ও রস।

ক)ম্যাগনেসিয়ামে পরিপূর্ণ:

এই বীজ ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ। পরিমিত ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা আপনার রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, সেইসাথে হার্ট এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

খ)মূল্যবান পুষ্টিগুণে ভরপুর:

এই বীজ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য অনেক পুষ্টিতে ভরপুর।  এক আউন্স (28 গ্রাম) কুমড়ার বীজে প্রায় 151 ক্যালোরি থাকে।

গ)উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিশিষ্ট:

কুমড়োর বীজ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পূর্ণ যা রোগ থেকে রক্ষা করতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ঘ)ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসের ক্ষমতা:

কিছু গবেষণা দেখায় যে কুমড়োর বীজ নির্দিষ্ট কয়েক ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

ঙ)প্রোস্টেট এবং মূত্রাশয় স্বাস্থ্যের উন্নতি:

কুমড়োর বীজ  প্রোস্টেট স্বাস্থ্য এবং মূত্রাশয়ের সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

চ)হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে:

এই বীজে থাকা পুষ্টিগুণ রক্তচাপ কমিয়ে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়িয়ে আপনার হৃদয়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ছ)রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে:

মিষ্টি কুমড়ার বীজ টাইপ 2 ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে।  তবে আরও গবেষণা করার প্রয়োজন রয়েছে।

জ)প্রচুর ফাইবার:

মিষ্টি কুমড়ার বীজ ফাইবারের একটি ভালো উৎস।  উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবারগুলি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার ঝুঁকি হ্রাস সহ অনেক স্বাস্থ্য সুবিধা অর্জন করতে পারে।

শেষকথা:

মিষ্টি কুমড়া, এর ফুল ও এর বীজ তিনটিই আমাদের সুস্বাস্থ্যকে আরো তরান্বিত করে। সুস্থ ও সুন্দর জীবন পেতে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এর ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে আপনার দেহ ও মন ভালো থাকবে।

তথ্যসূত্র:

https://www.webmd.com/diet/ss/slideshow-health-benefits-pumpkin?ved=2ahukewj5hpujtztzahvr8hmbhbxxdkaqfnoecdcqaq&usg=aovvaw14tqirlytlibw9d1adecji
https://www.medicalnewstoday.com/articles/279610&ved=2ahUKEwj5hPujtZTzAhVR8HMBHbXxDkAQFnoFCNcCEAE&usg=AOvVaw3CQzBpsQr4BkcHTCxZzKK1

আরও পড়ুন

পেটের মেদ কমানোর ঘরোয়া উপায়।
এলার্জি থেকে মুক্তির উপায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All Rights Reserved By Healthjus © 2021-2022