লবণ এর উপকারিতা ও অপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

Food Habit General Queries

লবণ আমাদের অতি পরিচিত একটি খাদ্য উপাদান। এই উপাদান ছাড়া আমাদের নিত্যদিনের রান্না, খাওয়া অপূর্ণ। এই উপাদান ছাড়া রান্নায় স্বাদ আসে না একদমই। লবণ ছাড়া তরকারি কেমন সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই উপাদান কি শুধু রান্নার কাজেই লাগে বা শুধুই খাওয়ার জন্য বা স্বাদ বাড়ানোর জন্যই খাই আমরা? এর কি কোনো উপকার নেই? লবণেরও আছে অনেক উপকারিতা। এটি একটি অত্যন্ত উপকারী খাদ্য উপাদান। এটি শুধু খাওয়ার জন্যই খাওয়া নয়, দেহের নানা উপকারের জন্যও খাওয়া উচিৎ। আজ আমরা এই উপাদানটির বিষয়েই মূলত আলোচনা করবো।

লবণের পুষ্টি উপাদান

সমুদ্রের পানি থেকে উৎপাদিত একটি উপাদান হল লবণ। এতে রয়েছে নানাবিধ পুষ্টি উপাদান। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, কপার ইত্যাদির মতো উপাদান। ১ কাপ বা ২৯২ গ্রাম লবণে রয়েছে:

  • ৭০.১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম
  • ১ মিলিগ্রাম আয়রন
  • ২৩.৪ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম
  • ১১৩১৭৪ মিলিগ্রাম সোডিয়াম
  • ২.৯ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম
  • ৫.৮ মাইক্রোগ্রাম ফ্লুরাইড
  • ০.৩ মাইক্রোগ্রাম সেলেনিয়াম
  • ০.৩ মিলিগ্রাম জিংক
  • ০.৩ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজ
  • ০.১ মিলিগ্রাম কপার
  • ০.৬ গ্রাম পানি

এ সকল উপাদান আমাদের দেহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী।

লবণ এর উপকারিতা

স্বাদ বাড়ানোর জন্য কিংবা শুধুই খাওয়ার জন্যই আমরা লবণ খাই। অনেকে আবার লবণ খান না বা খেতে চান না। এই খাদ্য উপাদানেরও রয়েছে অনেক উপকারিতা। আসুন জেনে নিই এর উপকারিতা গুলো।

  • ওজন কমাতে সাহায্য করে এই উপাদান।
  • নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেশার কমাতে লবণের রয়েছে অনেক কার্যকারিতা। ব্লাড প্রেশার হঠাৎ কমে গেলে লবণের শরবত খেয়ে নিন। এতে উপকার পাবেন।
  • অ্যালোভেরা জেল, নারকেল তেল এবং অল্প পরিমাণ লেবুর রসের সাথে লবণ মিশিয়ে বডি স্ক্রাব তৈরি করে গোসল বা স্নানের আগে ত্বকে লাগালে ত্বকের মরা কোষ দূর হয়। এতে ত্বকের কোমলতা বৃদ্ধি পায়।
  • লবণ জল দিয়ে নিয়মিত গার্গল বা কুলি করলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। পাশাপাশি দাঁতের মাড়িও শক্ত ও মজবুত হয়।
  • লবণে রয়েছে হাইড্রোক্লোরিক এসিড যা খাবার হজমে সহায়তা করে। তাই হজমশক্তি বাড়াতে খেতে পারেন এটি।
  • এতে থাকা সোডিয়াম দেহের পানির প্রবাহকে ঠিক রেখে স্নায়ুতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি এই উপাদান মস্তিষ্ককেও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
  • পায়ে অনেক সময় খিচুনি হয়। এক্ষেত্রে এই সমস্যা দূর করতে কাজ করে লবণ।
  • এতে থাকা আয়রন দেহের ক্লান্তি দূর করে। পাশাপাশি দেহের রক্তস্বল্পতা কমায় ও রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়ায়।
  • এতে বিদ্যমান সোডিয়াম হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এবং দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়ক।
  • দাঁতের এনামেল ঠিক রাখে এবং ক্যাভিটি জাতীয় সমস্যা দূর করে।
  • এতে থাকা জিংক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের সঠিক গঠনে সাহায্য করে।
লবণ এর উপকারিতা
লবণ

লবণ দিয়ে ঘরোয়া চিকিৎসা

লবণ দিয়ে কিন্তু চাইলে বিভিন্ন ছোট খাটো সমস্যার ঘরোয়া ও প্রাথমিক চিকিৎসা করা যায়। এবার জানবো সেটাই।

  • গলা ব্যথা কিংবা টনসিলের ব্যথায় কুসুম গরম পানির সাথে লবণ মিশিয়ে গলায় গড়গড় করলে আরাম পাবেন এবং ব্যথাও কমবে।
  • শরীরে গরম তেলের ছিটা পড়লে বা শরীরে কোথাও গরম ছ্যাঁকা লাগলে সাথে সাথে এটি লাগালে আরাম পাবেন এবং ফোসকাও পড়ে না।
  • অনেকে দাঁতের ব্যথায় ভুগেন৷ এটি খুবই মারাত্মক ব্যথা। এ ব্যথায় কুসুম গরম পানির সাথে লবণ মিশিয়ে কুলি করে ব্যথা অনেকটা উপশম হয় এবং আরাম পাওয়া যায়।
  • মাছ কাটতে গিয়ে অনেকের হাতে মাছের কাঁটা বিঁধে যায়। এক্ষেত্রে তখন ক্ষতস্থানে লবণ লাগালে যন্ত্রণা উপশম হয়।
  • পোকামাকড় এমনকি বিষাক্ত পিঁপড়ার  কামড়ে প্রচন্ড জ্বালাপোড়া হলে ক্ষতস্থানে এটি লাগালে উপকার মিলবে।

লবন এর অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিক

লবণের যে শুধু উপকারিতা আছে এমন কিন্তু ভাববেন না। এর রয়েছে বেশ কিছু অপকারিতাও। সীমিত পরিমাণে লবণ না খেয়ে বেশি খেলে এ সকল অপকারিতা দেখা দিতে পারে। এর অপকারিতার দিকগুলো এবার জানবো।

  • বেশি পরিমাণে লবণ খেলে দেহের রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তারা এটি এড়িয়ে চলা ভালো।
  • প্রয়োজনের বেশি খেলে এটি আপনার দেহের ওজন বেশিই কমিয়ে দিতে পারে। আর ওজন ঠিক না থেকে বেশি কমে গেলে তখন ক্ষতির কারণ হতে পারে।
  • অতিরিক্ত লবণ খেলে অস্টিওপরোসিসের সমস্যা হতে পারে। এতে হাঁড় ক্ষয় হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে এটি খাওয়া উচিৎ নয়।
  • এটি অতিরিক্ত খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বেশি লবণযুক্ত খাবার পরিহার করা ভালো।
  • অতিরিক্ত লবণ খেলে কিডনি থেকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম নিঃসৃত হয়ে কিডনিতে পাথর হতে পারে যা খুবই মারাত্মক ক্ষতির কারণ।
  • এটি অতিরিক্ত খেলে রক্ত পাতলা হয়ে যেতে পারে। ফলে বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে।
  • বেশি পরিমাণে লবণ খাওয়া ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

উপসংহার

লবণকে অনেকেই মূলত ক্ষতিকর একটি উপাদান হিসেবেই মনে করে। কিন্তু এরও রয়েছে নানাবিধ উপকারী গুণ। তবে এ সকল উপকারী গুণ বা উপকারিতা পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে এটি খেতে হবে। অন্যথায় এ থেকে আপনি উপকার পাওয়ার বদলে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।

আরও পড়ুন

কালোজিরার গুণ ও উপকারিতা।
থানকুনি পাতা খেলে কি হয়?
লেবু কেন খাবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All Rights Reserved By Healthjus © 2021-2022