লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা

General Queries

লেবু

লেবু হল বাঙালির খাদ্যের অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। লেবু ছাড়া বাঙালির খাওয়া যেনো ঠিক জমে না। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ একটি ফল হল এটি। ফল হলেও খাওয়া যায় ভাত-তরকারির সাথে কিংবা রস করে বা শরবতে মিশিয়ে কিংবা আরও নানা ভাবে। নানা উপকারিতায় ভরপুর এই ফল অত্যন্ত সহজলভ্য। খুব সহজেই এটি পাওয়া যায় এবং দামেও সস্তা। ভিটামিন-সি এর অভাব পূরণ ছাড়াও আরও নানা রকমের উপকার করে থাকে এই ফল। আজ জেনে নেবো এর নানাবিধ উপকারিতা সম্বন্ধে।

লেবুর উপকারিতা

প্রচুর ভিটামিন-সি যুক্ত লেবু করে থাকে আমাদের অনেক উপকার। এর উপকারিতা বলে সহজে শেষ করা যাবে না। অনেক উপকারী এই ফলের কিছু উপকারিতা এবার জেনে নিই।

  • লেবুতে থাকা ভিটামিন-সি দেহের ভিটামিন-সি এর চাহিদা পূরণ করে।
  • এতে থাকা ভিটামিন-সি এন্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে এবং ঠান্ডা, সর্দি, কাশি প্রতিরোধ করে।
  • লেবুর ভিটামিন-সি ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর। এটি দেহে ক্যান্সারের সেল বা কোষ গঠনে বাধা দেয়।
  • এই ফলের রসের সাথে গরম পানি মিশিয়ে খেলে হজমশক্তি বাড়ে এবং লিভারও সতেজ থাকে।
  • বুক জ্বালাপোড়া কিংবা আলসারের মতো রোগ প্রতিরোধে এই ফল বেশ কার্যকর।
  • শরীরের ভেতরের বিষাক্ত পদার্থকে বাইরে বের করে দেয় এই ফল। এতে করে দেহের অন্ত্রনালী, রক্তনালী, রক্ত, লিভারসহ পুরো শরীর পরিষ্কার থাকে।
  • ওজন কমাতে লেবু বেশ কার্যকর।
  • এই ফলের খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে গোসলের সময় লাগানো যায়। এতে করে শরীর ঠান্ডা হয় এবং আরাম অনুভূত হয়।
  • এই ফলের শুকনো খোসার গুঁড়ো মাথা ব্যথা দূর করতে কার্যকর।
  • মুখে বা দেহের কোথাও ব্রণ হলে ব্রণে লেবুর রস দিলে ব্রণ দূর হয়ে যায়।
  • আর্থ্রাইটিসের সমস্যা দূর করতে এই ফল বেশ কার্যকর।
  • যেকোনো ধরনের ক্যান্সার, স্ট্রোক, হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে দারুণ ভূমিকা রাখে এটি।
  • দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর রয়েছে দারুণ ভূমিকা।
  • গলার ও শ্বাসনালীর ইনফেকশন বা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে এই ফল।

লেবুর খোসার উপকারিতা

লেবুর মতোই এর খোসাতেও রয়েছে অনেক উপকারিতা। এই খোসাও খাওয়া যায়। এই খোসা থেকেও পাওয়া যায় নানবিধ উপকার। এবার জানবো লেবুর খোসার উপকারিতা সম্বন্ধে।

  • দেহ থেকে বাজে কোলেস্টেরল কমায় এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
  • লেবুর খোসায় থাকা ভিটামিন-সি, পেকটিন, ক্যালসিয়াম, মিনারেল ইত্যাদি দেহের রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে।
  • লেবুর খোসায় থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • লেবুর খোসায় রয়েছে ফাইবার বা আঁশ। এই ফাইবার বা আঁশ হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি সহায়ক।
  • ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও লেবুর খোসা কাজ করে। এটি দেহের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
  • দেহের হাড়ের গঠনে এই খোসা ভূমিকা রাখে।
  • ওজন কমানোতেও লেবুর খোসা বেশ কার্যকর।
  • ত্বকের বলিরেখা কিংবা কালো দাগ দূর করতে এই খোসা বেশ কাজ করে। পাশাপাশি বার্ধক্যের ছাপ কমাতেও এটি সাহায্য করে।
লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা
লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা

লেবুর শরবত কেন খাবেন?

লেবু দিয়ে খেতে পারেন শরবত। এর শরবতের রয়েছে বিভিন্ন উপকারিতা। নিচে এ সম্পর্কে আলোকপাত করা হল:

  • এই শরবত দেহের ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • পিত্তথলির পাথর একটি মারাত্মক রোগ। এই পিত্তথলির পাথর দূর করতে খেতে পারেন নিয়মিত লেবুর রস। এটি খাবার হজমে সহায়তা করে পিত্তথলিতে পাথর হতে বাধা দেয়।
  • ক্লান্তি দূর করতে লেবুর শরবতের জুড়ি নেই। এক গ্লাস লেবুর শরবত নিমিষেই আপনার সকল ক্লান্তি দূর করতে সক্ষম।

লেবু ও গরম পানি

লেবুর সাথে চাইলে গরম পানি মিশিয়ে খেতে পারেন। প্রতিদিন লেবুর রসের সাথে কুসুম গরম পানি মিশিয়ে খেলে বিভিন্ন উপকার পাওয়া যায়।

প্রতিদিন খালি পেটে লেবুর রস ও গরম পানি খেলে দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
গরম পানি ও লেবুর রস হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে দেহের অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি ঝরে যায়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

লেবু কিভাবে খাবো?

লেবু খেতে পারেন বিভিন্ন ভাবে। আসুন দেখে নিই কি কি উপায়ে এটি খেতে পারেন।

  • মধু দিয়ে খেতে পারেন লেবুর রস।
  • কুসুম গরম পানির সাথে লেবুর রস খেতে পারেন।
  • ঠান্ডা পানির সাথেও মিশিয়ে খেতে পারেন লেবুর রস। এতে গরম থেকে আরাম মিলে।
  • কুসুম গরম পানির সাথে লেবুর রসের মিশ্রণের সাথে পুদিনা পাতা কিংবা আদা যোগ করে খেতে পারেন।
  • লেবুর সাথে শসা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেতে পারেন।
  • রঙ চা বা লিকার চায়ের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন লেবু চা।
  • সালাদের সাথেও লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন।

লেবুর অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিক

লেবুর উপকারিতা অনেক হলেও এরও রয়েছে কিছু অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিক।

অ্যাসিডিটির সমস্যা যাদের আছে তারা অতিরিক্ত লেবু খেলে বুক জ্বালাপোড়া করে।
অতিরিক্ত লেবু খাওয়া অনেক সময় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সৃষ্টি করে। এতে পেট ফাঁপা সহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
লেবুর শরবত বেশি খেলে অনেক সময় দেহে দুর্বলতা দেখা দেয়।
বেশি পরিমাণে লেবুর শরবত বা রস খেলে পেটে ব্যথা হয় অনেক সময়।

পরিশেষে

লেবু একটি অন্যতম উপকারী ফল বা খাবার। এটি পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিন খাওয়া উচিৎ। প্রয়োজনের বেশি খাওয়া উচিৎ নয়। প্রয়োজনের বেশি খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি হওয়া আশঙ্কা থাকে। তাই এ ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। সীমিত ও পরিমিত পরিমাণে লেবু খান, সুস্থ থাকুন।

আরও পড়ুন

মাথা ব্যথা থেকে মুক্তির উপায়।
ওটমিল বা ওটস কেন খাবো?
গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All Rights Reserved By Healthjus © 2021-2022